বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
ট্রাভেল এজেন্সি

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি: ডিসকাউন্টের ফাঁদে ফেলে অর্থপাচার

বার্তা ডেস্ক ২৫ অক্টোবার ২০২৫ ০৪:০০ পি.এম

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি

এয়ার টিকিট গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে একের পর এক পালিয়ে যাচ্ছে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, তুলনামূলক বড় ডিসকাউন্টের ফাঁদে ফেলে আত্মসাৎ করা অর্থপাচার করে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছে মালিকপক্ষ। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিমালা না থাকার সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন চক্র।

চলতি বছরের ২ আগস্ট হুট করেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে দেশ ছেড়ে পালান জনপ্রিয় ওটিএ বা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্টের এমডি। এরপর গত ১৫ অক্টোবর ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল ও ২০ তারিখ ট্রাভেল বিজনেস পোর্টাল নামের আরও দুটি ওটিএ প্ল্যাটফর্ম একই কায়দায় পালিয়ে যায়।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে টিকিট বিক্রি করে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যাচ্ছে।

সরাসরি এয়ারলাইনস থেকে টিকিট কাটা তুলনামূলক জটিল হওয়ায় যাত্রীরা নির্ভর করে ট্রাভেল এজেন্সির ওপর। ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাজারের অন্য সবার থেকে এসব প্রতিষ্ঠান ছাড় দিতো বেশি। ফলে ফাঁদে পড়তেন সাধারণ গ্রাহক। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও এদের ওপর নির্ভরশীল। রয়েছে টাকা পাচারের অভিযোগও। এসব ঘটনায় হয়েছে একাধিক মামলা।

ভুক্তভোগী সাব এজেন্টরা জানান, ৩ মাস আগে কাটা টিকিটগুলোর যাত্রীদের ফ্লাইট এক সপ্তাহের মধ্যে। এখন নিজেদের পকেট থেকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ টাকা খরচ করে টিকিটগুলো রিইস্যু করে যাত্রীদের যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। ফ্লাইট এক্সপার্ট থেকে ফ্লাইফেয়ার এমন ৩-৪ হাত হয়ে টিকিট প্রসেস হতো।

কেন পালালেন তারা? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই যোগাযোগের চেষ্টা করে সময় সংবাদ। ফ্লাই ফার ও বিজনেস পোর্টালের কাউকে না পেলেও কথা হয় ফ্লাইট এক্সপার্টের চেয়ারম্যানের সঙ্গে। তার দাবি, পালাতে বাধ্য হয়েছেন কর্মচারীদের প্রতারণায়।


ফ্লাইট এক্সপার্টের পলাতক চেয়ারম্যান এম এ রশিদ শাহ সম্রাট মোবাইলে সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমাদের এখানে একটা ষড়যন্ত্র হয়েছে। প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পেছনে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়ী।’


তিনি আরও বলেন, ‘টিকিটের দাম ৬ হাজার টাকা, আপনি ৭ হাজার টাকা দেবেন। তাহলে কীভাবে বলেন, সে আমার টাকা নিয়ে চলে গেছে। এটাতে টাকা নেয়ার তো কোনো সিস্টেম নেই। এফইবিডি যদি রিফান্ড করতো, তাহলে বলা যেত সে রিফান্ড করে চলে গেছে, সে তো রিফান্ড করেনি। তার (ফ্লাইট এক্সপার্ট এমডি) উদ্দেশ্য এটা ছিল না। সে চেষ্টা করছিল প্রতিষ্ঠানটা চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু পরিচালক ও কর্মকর্তারা অন্য ওটিএর সঙ্গে যোগসাজশে একটা বেঈমানি করে। আমার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।’


আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, বিমান টিকিট বিক্রির পর তা রিফান্ড বা রিইস্যুর সুযোগ থাকে কেবল যাত্রীর। কিন্তু নীতিমালা না থাকায় গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই বাংলাদেশে রিফান্ড করতে পারেন ওটিএগুলো। এছাড়া অনলাইন ও অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নেই কোনো নজরদারি। এসব কারণেই গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

আটাব এর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ বলেন, ‘অতিরঞ্জিত বিজ্ঞাপন এবং অতিরিক্ত মূল্যছাড় এগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। ট্রাভেল এজেন্সি যে ম্যানুয়াল থেকে অনলাইন করছে, সে বিষয়েও সরকারের জানাশোনা ও দেখভাল দরকার, কিন্তু তারা সেটা করছে না। ফলে এখানে কোনো নিয়মনীতি নেই। এ নতুন পদ্ধতি, নতুন প্রযুক্তি সেখানে ব্যবসাটা কীভাবে হচ্ছে, এবং এটায় কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, সেটা কিন্তু সরকারের নলেজে ছিল না। আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরেছি, এবং একটা নীতিমালার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। আশা করি, সরকার দ্রুত এ বিষয়ে নীতিমালা দেবে এবং তখন এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যাবে।’


এর আগে ২০২৩ সালে ‘লেটস ফ্লাই’ ও ২০২১ সালে ‘২৪ টিকিট ডটকম’ নামে আরও দুটি ওটিএ প্ল্যাটফর্ম গ্রাহক ও সাব এজেন্টদের প্রায় ১৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।