বার্তা ডেস্ক ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:২২ পি.এম
বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সংগঠন অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) জেট ফুয়েল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনায় এওএবির মহাসচিব মফিজুর রহমান এই প্রস্তাব পেশ করেন।
বর্তমানে জেট ফুয়েলের ওপর ৬ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ১৫ শতাংশ মূসক ও ২ শতাংশ আগাম কর দিতে হয়। এওএবি মূসক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি আমদানি শুল্ক ও আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে।
সংগঠনটি আরও দাবি জানিয়েছে, যুদ্ধ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে তেলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও করের পরিমাণ নির্দিষ্ট রেখে করের হার আনুপাতিক হারে কমিয়ে আনতে হবে।
এওএবি উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ এবং ইঞ্জিনের ওপর আরোপিত আমদানি কর ও অগ্রিম সাড়ে ৭ শতাংশ আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে।
পাশাপাশি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘স্পেয়ার পার্টস’ আমদানিতে বন্ডেড ওয়ারহাউজ লাইসেন্সের সুবিধা চেয়েছে তারা।
এ খাতের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ব্যয়ের ওপর বিদ্যমান কর ও মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বর্তমানে আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশিক্ষণ ব্যয়ে ১০ শতাংশ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণে ২০ শতাংশ হারে আয়কর ও মূসক প্রযোজ্য।
এছাড়া সম্পূরক শুল্ক অনুযায়ী ১৫ শতাংশ মূসক দিতে হয়।
বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে যাত্রীপ্রতি ১ হাজার ১২৫ টাকা বিবিধ কর দিতে হয়। এওএবি এটি ৭২৫ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে।
পাশাপাশি আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৬৩ সংশোধন বা বাতিল করে প্রকৃত করদায় অপেক্ষা অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে তারা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে হেলিকপ্টার আমদানিতে শুল্ক ও মূসক আরোপের ফলে মোট শুল্ক ৩৭ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এওএবি এটি আগের মতো ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে।
চার্টার্ড বিমান বা হেলিকপ্টার ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূসক ও ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কও অব্যাহতি চেয়েছে সংগঠনটি।
একইসঙ্গে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টারের সার্ভিস বিলের ওপর ৫ শতাংশ উৎসে আয়কর অব্যাহতি দাবি করেছে এওএবি।